ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় বোরকা পরে আসা দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে কুপিয়ে এক কৃষককে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের গাজীরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মেহেন্দিগঞ্জের কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মুলাদী উপজেলার বাসিন্দা কৃষক কবির ব্যাপারীকে গাজিরহাট এলাকায় ৫-৬ জন বোরকা পরিহিত দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি পাশের উপজেলার বাসিন্দা। হত্যার কারণ ও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
বরিশালের মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম সোহেল রানা বলেন, নিহত ব্যক্তি মুলাদী উপজেলার হলেও ঘটনাস্থল কাজিরহাট থানায়। বিষয়টি তারা তদন্ত করছে।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে অটোরিকশায় করে গাজীরহাট বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন কবির ব্যাপারী। বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে ঘটনাস্থলে বোরকা পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত অটোরিকশাটির গতিরোধ করে। এরপর তাকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ পাশের একটি ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পথচারীরা মরদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
মুলাদী উপজেলার কাজীরচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু হানিফ সরদার ও নিহতের এক মামা বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে বোরকা পরে একদল দুর্বৃত্ত কবির ব্যাপারীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। হামলার পর ঘটনাস্থলে বোরকা ফেলে রেখে যায় তারা।
দক্ষিণ বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা নিহতের চাচাতো ভাই শহীদ ব্যাপারী জানান, ২০০৫ সালে একই এলাকার শাহাবুদ্দিন ব্যাপারী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় শাহাবুদ্দিন ব্যাপারীর স্বজনরা কবির ব্যাপারীকে অভিযুক্ত করে তাকে আসামি করেছিলেন। ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে শাহাবুদ্দিন ব্যাপারীর লোকজন কবির ব্যাপারীকে কুপিয়ে হত্যা করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ পোষণ করেন তিনি।








